মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৯৪ রোগী ভর্তি, মৃত্যু আরও ৩ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম রাজধানীতে ট্রাফিক আইন ভাঙায় ২১৪৪ মামলা, ডাম্পিং ৫০৬ গাড়ি ভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়: পরিবেশমন্ত্রী পদাতিক ইউনিটগুলোকে দেশসেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান সেনাপ্রধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথেই বিএনপি, আস্থা রাখার আহ্বান আইনমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, উপবৃত্তি পুনরায় চালুর ভাবনা সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্পে ব্রিটিশ অর্থছাঁটাই, দুই বছর আগেই বন্ধ হচ্ছে কার্যক্রম
  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথেই বিএনপি, আস্থা রাখার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথেই বিএনপি, আস্থা রাখার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিএনপি জুলাই সনদে উল্লেখিত সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেই এগিয়ে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারের ওপর আস্থা রাখলে সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

    সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

    সংস্কারে ধীরগতি হলেও কাজ চলছে

    আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কাজে গতি কিছুটা ধীর হতে পারে, তবে সংস্কারের উদ্যোগ থেমে নেই। সরকারের ওপর গঠনমূলক চাপ থাকলে তা কাজকে আরও কার্যকর করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে অযথা বাধা দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।

    একটি গুমের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে।

    পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়

    রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে কোথাও সরকার প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে সংশোধনের সুযোগও রাখা হয়েছে।

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের কাঠামোতে কমিশনটি কার্যকর হওয়ার পরিবর্তে জটিল একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা বহাল রাখা হচ্ছে এবং সরকার জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

    ‘আইন পরিবর্তনযোগ্য’

    আইনকে সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ থাকার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। প্রয়োজন হলে তা পরিবর্তন করা যায়।

    তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানি বা ক্ষতির শিকার হবেন না। জুলাই সনদেও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। যৌক্তিক প্রস্তাব এলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে ফিরতে চাই না। আমরা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তা অস্বীকার করছি না। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এগোতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ। বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায়। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাই।’

    সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব

    প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে অভ্যুত্থান হয়েছে সংস্কারের উদ্দেশ্যে; এটিকে বিপ্লব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা গেলে পরিবর্তনের কঠিন পথও সুস্থ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ঘাটতির কারণে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফার চেতনাকে সামনে রেখেছেন। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন।

    পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার দূরত্ব কমাতে হবে।

    সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন দলের মত

    জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় ঐক্য ও দেশের অভিন্ন পরিচয় শক্তিশালী না হলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হবে। বিচারক নিয়োগ, বিচারব্যবস্থা ও পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক বলেন, শুধু নাম পরিবর্তন করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা যায় না। আগের শাসনব্যবস্থার চর্চার বিপরীত পথে না হাঁটলে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিএনপির ওপর রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, শুধু একটি মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারের লক্ষ্য হতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে গণভোটের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, জনগণ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। সরকারের কাজের ঘাটতি থাকলে মানুষ তা বুঝতে পারবে। তাই বাস্তবতার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

    রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশাকে রাজনৈতিকভাবে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই ভোট দিয়েছে। তাই সরকারের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন