দলের পরিচয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ত ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো দুই নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান রিজভী।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ব্যবহার করে যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মে যুক্ত হলে ছাড় দেওয়া হবে না।
রিজভী বলেন, তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে দলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের জনগণের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি জনকল্যাণ, মানবিক সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ কমে যায়। সরকারের প্রতিটি কাজেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। জনস্বার্থের বাইরে বিএনপি কোনো কর্মকাণ্ডে যাবে না বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জনকল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের ভূমিকার কারণে বিএনপি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রিজভী বলেন, নেতাকর্মীদের এসব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে এবং জনগণের কাছে সরকারের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরতে হবে। এতে দলের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থনের কথা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন এবং একজন দলীয় সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপির জনপ্রিয়তা নিয়ে রিজভী দাবি করেন, নানা অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও বিভিন্ন জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪ থেকে ৫৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আরও বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলে কোনো সরকার ব্যর্থ হবে না। জনগণের জন্য কাজ করা সরকারই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।