মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৯৪ রোগী ভর্তি, মৃত্যু আরও ৩ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম রাজধানীতে ট্রাফিক আইন ভাঙায় ২১৪৪ মামলা, ডাম্পিং ৫০৬ গাড়ি ভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়: পরিবেশমন্ত্রী পদাতিক ইউনিটগুলোকে দেশসেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান সেনাপ্রধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথেই বিএনপি, আস্থা রাখার আহ্বান আইনমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, উপবৃত্তি পুনরায় চালুর ভাবনা সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্পে ব্রিটিশ অর্থছাঁটাই, দুই বছর আগেই বন্ধ হচ্ছে কার্যক্রম
  • ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম

    ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ জন্য চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য মহাসড়কে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    সড়ক নিরাপত্তায় নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে থাকা বাজার স্থানান্তর, আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে ডাইভারশন নির্মাণ এবং সড়কে স্পষ্ট মার্কিং ও সাইনেজ স্থাপনের কাজ করা হবে।

    সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং পথচারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

    চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক চালক পরিবহন খাতে সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে গাড়ি চালানো শিখেছেন। কিন্তু গাড়ি চালাতে পারলেই একজন চালক দক্ষ হয়ে ওঠেন না। মহাসড়কে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাড়ি চালানোর জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। মহাসড়কের আশপাশের হাসপাতালগুলোতে পৃথক ইউনিট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতি ১০ কিলোমিটারে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা ট্রমা সেন্টারগুলো পুনরায় সচল করার ওপরও গুরুত্ব দেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর মতে, দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা ও সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের প্রতিটি টাকা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় কার্যকরভাবে ব্যয় করতে হবে। জনগণের অর্থে এমন কোনো প্রকল্প নেওয়া উচিত নয়, যার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।

    তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সড়ক নিরাপদ হবে না; জনগণের সচেতনতাও বাড়াতে হবে। সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে না পারলে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর উদ্যোগ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সড়ককে নিরাপদ করার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার গতিও বাড়াতে হবে। তবে তা পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃহত্তর পরিসরে একটি কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প (বিআরএসপি) দেশের প্রথম বহুখাতভিত্তিক ও ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ভিত্তিক উদ্যোগ। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও স্বাস্থ্য অধিদফতর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

    প্রকল্পের আওতায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স জয়দেবপুর-হাটিকামরুল-বগুড়া-রংপুর, হাটিকামরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর মোতায়েন করা হবে। এছাড়া ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেলও কার্যক্রমে যুক্ত হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন