৬০ বছর পরও অমর ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’

আধুনিক যুগের বিগ বাজেটের গান বলতে আমরা হয়তো ইয়ো ইয়ো হানি সিং-এর ‘মিলিওনেয়ার’ কিংবা রজনীকান্তের সিনেমার গানকে বুঝি। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) হিসাব কষলে বর্তমানের যেকোনো দামী মিউজিক ভিডিওকে অনায়াসেই টেক্কা দেবে ১৯৬০ সালের একটি সৃষ্টি। পরিচালক কে. আসিফের ‘মুঘল-ই-আজম’ চলচ্চিত্রের সেই অমর গান— ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’। আজকের বাজারে এই একটি গানের পেছনে ব্যয়ের অঙ্ক দাঁড়াবে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
বেলজিয়াম কাঁচের সেই অভাবনীয় ‘শীষ মহল’
এই একটি গানের চিত্রায়নের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল ১৩৫ ফুট চওড়া ও ৩৫ ফুট লম্বা এক বিশাল ‘শীষ মহল’ সেট। লাহোরের ঐতিহাসিক শীষ মহলের আদলে তৈরি এই সেটে বসানো হয়েছিল প্রায় ১০ লক্ষ ছোট-বড় বেলজিয়াম কাঁচ। পুরো সেটটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ দুই বছর। সিনেমা মুক্তির পরও এই সেটটি ভাঙা হয়নি, যা পরবর্তী কয়েক বছর পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
শুটিং ও প্রযুক্তির নজিরবিহীন ব্যবহার
গানটি নিখুঁতভাবে ধারণ করতে সে সময় প্রথমবার একসঙ্গে ১৪টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিল। লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে এই গানের কথাগুলো চূড়ান্ত করার আগে প্রায় ১০৫ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল। এছাড়া ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের দিকপাল বড় গুলাম আলী খাঁ এই ছবির একটি গানের জন্য তৎকালীন সময়ে ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন—যা সেই যুগে একটি রেকর্ড।
পর্দার আড়ালের হৃদয়স্পর্শী গল্প
শুটিং চলাকালীন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর হার্টে ফুটো (যাকে অনেকে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের সাথে তুলনা করেন) থাকায় কঠিন নৃত্যভঙ্গি সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অনন্যোপায় হয়ে পরিচালক তাঁর মুখের আদলে একটি রাবার মাস্ক তৈরি করান। এই মাস্ক পরে গানের কিছু কঠিন অংশে পারফর্ম করেছিলেন তৎকালীন ৩৩ বছর বয়সী পুরুষ নৃত্যশিল্পী লক্ষ্মীনারায়ণ।
নিখুঁত হওয়ার মূল্য
পরিচালক কে. আসিফ বিশ্বাস করতেন, “Perfection is expensive।” এই একটি গানের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল, তা দিয়ে সেই সময়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। ‘মুঘল-ই-আজম’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অবিনশ্বর মাইলফলক। আর ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’ গানটি আজও আভিজাত্য ও শৈল্পিক উৎকর্ষের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে টিকে আছে।
দৈএনকে/জে, আ