সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ঘুষের টাকা পকেটে নিলেন প্রকৌশলী, ভিডিও ভাইরাল

ঘুষের টাকা পকেটে নিলেন প্রকৌশলী, ভিডিও ভাইরাল
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা এলজিইডির এক উপসহকারী প্রকৌশলীর ঘুস গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অফিস কক্ষে বসে ফাইল আটকে রেখে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকার বান্ডিল গ্রহণ ও গুনে পকেটে রাখার দৃশ্য ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন Local Government Engineering Department (এলজিইডি) কমলনগর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। ভাইরাল হওয়া ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক ঠিকাদারের দেওয়া টাকার বান্ডিল গুনে নিজের প্যান্টের পকেটে রাখছেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা বসেন, বিল রেডি করিতেছি, এখনই সই করে দিচ্ছি।” অভিযোগ উঠেছে, টাকা গ্রহণের পরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করতে সম্মত হন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি ই-জিপি (e-GP) টেন্ডারের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার এক ঠিকাদার একটি সড়কের কাজ পান। কাজ শেষে বিল উত্তোলনের নথিতে স্বাক্ষরের জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী মোটা অঙ্কের ঘুস দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখার পর বাধ্য হয়ে ওই ঠিকাদার দাবিকৃত টাকার একটি বান্ডিল তাকে দেন। পুরো ঘটনাটি কৌশলে নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করেন ঠিকাদার।

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওটি অভিযুক্ত প্রকৌশলীর সাবেক কর্মস্থল মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ধারণ করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, এর আগেও ঘুস গ্রহণের অভিযোগ ওঠায় মোহাম্মদ আলীকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে কমলনগরে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি কমলনগর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। তবে পুরোনো ভিডিও নতুন কর্মস্থলে ছড়িয়ে পড়ায় অফিসপাড়াসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কমলনগর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায়।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন