একুশে পদক উৎসর্গে ববিতার হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত

এবছর একুশে পদক ২০২৬ পাচ্ছেন বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতা অভিনয়ে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা। এবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৯ জন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হবে।
তালিকায় নিজের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ববিতা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দেরিতে হলেও একুশে পদক পেয়েছি এটাই আমার জন্য বড় আনন্দ।’
পদকপ্রাপ্তির ঘোষণার পর থেকেই সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা বার্তায় ভাসছেন এই গুণী অভিনেত্রী।
এদিকে এই অভিনেত্রী জানান, এই সম্মাননা তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানকে।
চলচ্চিত্রে ববিতার যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রয়াত নির্মাতা জহির রায়হানের হাত ধরেই। সেই স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা। তাই এই একুশে পদকটি আমি তাকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি।’
নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালে। তখন তার নাম ছিল ফরিদা আক্তার পপি। পরে আব্দুল্লাহ আল মামুনের টেলিভিশন নাটক ‘কলম’-এ অভিনয় করেন তিনি। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ ছবিতে অভিনয়ের সময় তাকে নাম দেওয়া হয় ‘ববিতা’।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে ববিতার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘নয়নমণি’, ‘বসুন্ধরা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য একই সম্মাননা অর্জন করেন।
এছাড়া ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘কে আপন কে পর’ এবং প্রযোজক হিসেবে ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ সিনেমার জন্যও জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।
চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। অস্কারজয়ী বিশ্বনন্দিত নির্মাতা সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অশনিসংকেত’ সিনেমায় অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন ববিতা।
দৈএনকে/জে, আ