পটুয়াখালী-৩ আসনে নূরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে বিএনপি'র সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির নেতারা সংবাদ সংম্মেলন করেছেন। সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি আবদুল আলীম তালুকদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা হাসান মামুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন (দশমিনা- গলাচিপা) থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। দশমিনা-গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবির মুখে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
কিন্তু পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বিএনপির আসন সমঝোতার প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা দাবি করেন, নুর অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির কিছু নীতিনৈতিকতাহীন ব্যক্তিকে নুর কালো টাকা দিয়ে প্রভাবিত করতে সক্ষম করেছন এবং নির্বাচনের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপি নেতা আবদুল আলীম তালুকদার বলেন, নুরুল হক নুর গ্রাম-গঞ্জের নিরীহ অসায় মানুষকে টাকা দিয়ে তাদের ভোট কেনার অপচেষ্টা করছেন। নুরের লোকজন অপচেষ্টার ফাঁদে না ফেলতে পেরে সাধারণ মানুষকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি ধমকি প্রদান করছেন। ইতিমধ্যে নুরুল হক নুর বলে বেড়াচ্ছেন এমপি হয়ে গিয়েছি। শুধুমাত্র ১২ তারিখের অপো মাত্র।
বিএনপি নেতা বলেন, গণ অধিকারের প্রার্থী নুরুল হক নুর তার নির্বাচনি ব্যানার, রঙিন ফেস্টুন, লিফলেটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন। এছাড়া নুর বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে দশমিনা উপজেলা পরিষদের সামনে রঙিন বিলবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন, যা নির্বাচনি আচরণ পরিপন্থী। নির্বাচন কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সম্মুখে এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকলেও নুরের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আইনী ব্যবস্থা নিতে দেখছি না।
লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা বলেন, নুরুল হক নুরের স্ত্রী একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক হওয়া সত্বেও তিনি তার স্বামীর ট্রাক মার্কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ঘটনাগুলো অনবরত ঘটতে থাকলেও এখন পর্যন্ত নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল আলীম তালুকদার বলেন, নুরুল হক নুরের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও কর্মী সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেন, জোটের প্রার্থী হিসেবে আমরা তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করতে পারি। স্বতন্ত্র প্রার্থী তা পারেননা। নুর আরো বলেন, যারা অস্বাভাবিক কথা বলছে (সংবাদ সম্মেলন করা নেতারা) তাদের মানসিক চিকিৎসা দরকার। হাসান মামুন নির্বাচন বানচাল করার জন্য এগুলো করাচ্ছে। হাসান মামুন নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার জন্য নির্বাচন করছেন। তিনি ভালো মানুষ হলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন করতেন না। নুর বলেন, তিনি নিয়ম মেনেই রঙিন বিলবোর্ড করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম,সাবেক সহ-সভাপতি মো. মোফাজ্জেল হোসেন, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফকরুজ্জামান বাদল, সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন মোল্লা, সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান জোমাদ্দার, ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল মৃধা সহ আরও অনেকে।