সন্ধ্যার আলোতে স্বামীর স্মৃতি: লুৎফা ও নবাব সিরাজের গল্প

অনেকেই জানেন না বা জানতে চান না পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও তার পরিবারের করুণ গল্প । নবাব নিহত হওয়ার পর তার মরদেহ খোশবাগে নবাব আলীবর্দী খানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নেসা (লুৎফা) প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্বামীর কবরে প্রদীপ জ্বালাতেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই প্রথা অব্যাহত রেখেছিলেন।
এই প্রদীপ কি শুধুই এক বিধবার ভালোবাসার প্রতীক নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো ইতিহাস ও প্রতিবাদ? সেই প্রশ্নকে সামনে রেখে মঞ্চে আসছেন একক নাটক ‘লুৎফার প্রদীপ’।
নাট্যদল সমতলের প্রযোজনায় এবং তানভীর মোকাম্মেলের রচনায় নাটকটি মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। যারা অপূর্ব প্রেমের গল্পটি স্বচক্ষে উপভোগ করতে চান তারা আগামী ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে চলে যেতে পারেন। এই দুইদিন সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটি সেখানে প্রদর্শিত হবে।
নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন সগীর মোস্তফা। তিনি জানান, নাটকটি একজন দৃঢ়চেতা নারীর গল্প। তিনি ভাঙেন কিন্তু মচকান না।
এই নাটকের বিশেষ চমক দেশবরেণ্য অভিনেত্রী চিত্রলেখা গুহ। তাকে দেখা যাবে মঞ্চ নাটকটিতে লুৎফার চরিত্রে। চার দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এটি চিত্রলেখার প্রথম একক মঞ্চাভিনয়। এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। তার দর্শক-অনুরাগীরাও অপেক্ষা করছেন বিশেষ আগ্রহ নিয়ে।
নাটকটি প্রসঙ্গে চিত্রলেখা গুহ বলেন, ‘এটি একজন শক্ত নারীর জীবনকথা। একই সঙ্গে এটি একটি মানবিক ও ঐতিহাসিক নাটক। এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আপ্লুত।’
নাট্যকার তানভীর মোকাম্মেল জানান, লুৎফার প্রদীপ হয়ে ওঠে পরাধীন বাংলার আশা, আকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতার স্বপ্নের প্রতীক। ইতিহাসের নিষ্ঠুর বাস্তবতা ও দেশীয় দালালদের ভূমিকার মধ্য দিয়ে এই নাটক এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
নাটকটির শিল্প নির্দেশনা ও আলোক পরিকল্পনায় আছেন উত্তম গুহ। আবহসংগীত ও শব্দ পরিকল্পনায় রয়েছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু এবং পোশাক পরিকল্পনায় দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি।
দৈএনকে/জে, আ