সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন কাঠামো কার্যকর হলে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
একই সঙ্গে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতনেও বড় অঙ্কের সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ধাপের বেতন দেড় গুণ বাড়িয়ে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বেতন কমিশনের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছিল। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। অনুমোদন মিললে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় ও জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেবে বেতন কমিশন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর ধসে পড়া অর্থনীতির গতি ফেরাতে সক্রিয় হয় অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক খাত সংস্কারের পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাপনায় নজর দেয়া হয়। একই সঙ্গে আয়-বৈষম্য কমাতে নেয়া হয় বিভিন্ন উদ্যোগ।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে গঠন করা হয় পে-কমিশন। প্রায় ছয় মাসের কাজ শেষে তারা বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হচ্ছে ১:৮। পুরো বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। আগামী ১ জুলাই থেকে এই কাঠামো কার্যকর করার দায়িত্ব থাকবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের ওপর। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চেয়ারম্যান বলেছেন সবাই খুশি হবে।
এর আগে চলতি জানুয়ারি মাস থেকেই আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।