নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী হামলায় র্যাব সদস্য নিহত: প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার মাত্র দুই দিন আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় র্যাব সদস্যরা এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি চালাচ্ছিলেন। হামলাকারীরা র্যাবের ওপর অপ্রত্যাশিতভাবে গুলি চালায়। নিহত কর্মকর্তার পরিচয় জানানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে জনগণ উদ্বিগ্ন যে, নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটুকু বাস্তবসম্মতভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের হামলা নির্বাচনী পরিবেশে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের উপ-বার্তা প্রধান মোস্তফা কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়টি নির্বাচনের সঙ্গে খুবই প্রাসঙ্গিক। তারপর এবার পরিস্থিতিটা ভিন্ন। নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত কাজ, বৈধ অস্ত্রও জমা নেয়া হয়। কিন্তু এবার শুরুর দিকে একটু গোলমাল ছিল। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরের দিনই একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো। শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ। তফসিলের কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এছাড়া বিচ্ছিন্ন আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটলো। এসব বিষয়ে সবশেষ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যে কথা বলেছেন, এটির মধ্যে হাসির খোরাক আছে। তিনি বলেছেন, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো নির্বাচনের সময় ব্যবহার হবে না। প্রশ্ন হলো তিনি এ তথ্যটি কীভাবে পেলেন? সমান্তরালে এই প্রশ্নও আসছে, তাহলে তিনি জানেন এ অস্ত্রগুলো কোথায় আছে। এ ধরনের তথ্য দেয়ার কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আছে।’
মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা হচ্ছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু ভোটার এবং যারা ভোট গ্রহণ করবে তাদের নিরাপত্তারও প্রশ্ন আছে। এক পর্যায়ে এখন যোগ হয়ে গেল খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা কতটুকু আছে। চট্টগ্রামের ঘটনা আমাদের মধ্যে ভয় জাগাচ্ছে, উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থী, ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তার নিরাপত্তা কোন পর্যায়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট দেশের পরিস্থতি উল্লেখযোগ্য ভালো ছিল। তখন পুলিশ ছিল না, কেমনে ভালো থাকলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ভালো থাকার কারণ হলো-ওই সময় জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক ছিল। ঐক্যের একটি বার্তা ছিল। এ ঐক্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুধু স্বাভাবিক নয়, উন্নত করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক সময় বলেছিল, তাদের পতন হলে কয়েক লাখ নেতাকর্মী হত্যার শিকার হবে কিন্তু ওই পর্যায়ে কোনও অঘটন ঘটেনি।’
রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ময়দানে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বক্তব্যের প্রভাব পড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতির ওপর। নেতারা যদি বলতেন, প্রতিযোগিতা হবে, লড়াই হবে কিন্তু শত্রুতা হবে না। তা না করে তারা শব্দ বোমা ছাড়ছেন। কেউ বলছেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কেউ বলছেন, প্রশাসন একদিকে হেলে পড়ছে।’