প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন, আসছে নতুন ৪ থানা

দেশে আইনশৃঙ্খলা জোরদার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে চারটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিকার সভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত হবে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’। এসব বিভাগের মাধ্যমে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আলাদাভাবে পরিচালিত হবে, যা দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ও রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চারটি নতুন থানা স্থাপনের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জনগণ আরও দ্রুত ও কার্যকর পুলিশ সেবা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস রাষ্ট্রীয় সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নিকারের প্রথম সভা। সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সভা শেষে এসব তথ্য জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
সভায় গাজিপুর জেলায় পুর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পুর্বাচল দক্ষিণ, কক্সবাজার জেলায় মাতারবাড়ী নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এছাড়া নরসিংদী জেলায় রায়পুরাকে ভেঙে আরো একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
এছাড়াও সভায় ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ ও ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’ দু'টিকে একক্রীকরণের মাধ্যমে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠন করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তবে এ মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম (Ministry of Women and Children Affairs (MoWCA) অপরিবর্তিত থাকবে।
পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এছাড়া, ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ভূল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধন করে ‘ভূল্লী’ প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।