সানা খানের জীবন পরিবর্তনের পেছনের গল্প

হঠাৎ করেই বিনোদনের রঙিন দুনিয়া থেকে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানা খান সরে যাওয়ায় অনেকেই হতবাক ছিলেন। কেউ ভেবেছিলেন এটি সানার ব্যক্তিগত আবেগের সিদ্ধান্ত, এবং আশা করেছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার চলচ্চিত্রে ফিরে আসবেন। একই সঙ্গে, অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন কীভাবে তার জীবনে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটলো।
অবশেষে সাবেক এই অভিনেত্রী স্পষ্ট করে জানালেন, শোবিজ জগত ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত, এতে তার স্বামী ও ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি আনাস সাঈদের কোনো জোর বা ‘ব্রেনওয়াশ’ করার বিষয় ছিল না।
সম্প্রতি অভিনেত্রী রাশামি দেশাইয়ের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় সানা বলেন, এই পরিবর্তন তার জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত অধ্যায়, যা তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছিলেন।
সানা খান ‘জয় হো’, ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’, ওয়েব সিরিজ ‘স্পেশাল অপস’-সহ একাধিক জনপ্রিয় কাজ করেছেন। ‘বিগ বস ৬’-এ অংশ নেয়ার পর তিনি ব্যাপক পরিচিতিও পান। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ২০২০ সালে তিনি হঠাৎই বিনোদন জগত ছাড়ার ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সৃষ্টিকর্তার আদেশ মেনে মানবসেবার পথেই হাঁটতে চান।
পরবর্তীতে তিনি ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি আনাস সাঈদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সানা জানান, তাদের বিয়ে ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। শুধু তার বাবা-মা বিষয়টি জানতেন। এমনকি বিয়ের সময় হাতে মেহেদি দেয়ার সময়ও শিল্পীকে দিয়ে তিনি বরের নাম লেখেননি।
শোবিজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে সানা বলেন, ‘কেউ কাউকে ব্রেনওয়াশ করতে পারে না। আমি নিজেই শান্তি খুঁজছিলাম। টাকা, নাম-যশ, খ্যাতি—সব পাওয়া গেলেও ভেতরের শান্তি না থাকলে মানুষ অস্থিরই থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার জীবনে তখন অনেক পরিবর্তন আসছিল। আমি নিজেই অন্য একজন মানুষে পরিণত হচ্ছিলাম। এটা আমার স্বামীর কারণে নয়, এটা ছিল আমার নিজের সিদ্ধান্ত। তিনি শুধু আমাকে সঠিক পথনির্দেশনা দিয়েছেন।’
সানা জানান, তার আত্মীয়-স্বজনের অনেকেই বিয়ের কথা জানতেন না। পরে মসজিদে প্রথমবার তার স্বামীকে দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। বিয়ের খরচের বেশিরভাগ অংশ স্বামীই বহন করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
দৈএনকে/জে, আ