ঢাকায় বিশ্ব চলচ্চিত্রের উৎসব, প্রদর্শিত হচ্ছে ৯১ দেশের ২৪৫ সিনেমা

রাজধানীতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। গত শনিবার, ১০ জানুয়ারি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শকদের ভিড়, উচ্ছ্বাস আর আগ্রহে মুখর হয়ে উঠেছে উৎসবস্থলগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকা এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মিলনায়তনে ঢুঁ মারলেই বোঝা যায়—চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এই উৎসব কতটা প্রত্যাশিত।
উৎসবের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে ছিল চীনা নির্মাতা চেন শিয়াং পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘উ জিন ঝি লু’। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। প্রথম দিন থেকেই প্রায় সব প্রদর্শনীতে আসন পূর্ণ থাকছে; অনেক দর্শককে দাঁড়িয়ে সিনেমা উপভোগ করতেও দেখা গেছে।
এবারের উৎসবের স্লোগান— ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’। দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র দেখার সুযোগই তাদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে।
ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে সিনেমা দেখতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়েম রহমান বলেন,
“ক্লাস শেষ করেই এখানে চলে এসেছি। ইরান ও চীনের সিনেমাগুলো গল্প বলায় দারুণ শক্তিশালী। বড় পর্দায় এমন ছবি ঢাকায় খুব কমই দেখা যায়।”
জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে পরিবার নিয়ে ‘পরিণাম’ সিনেমা দেখতে আসা সরকারি চাকরিজীবী নাসরিন আক্তার বলেন,
“এই সিনেমাগুলো শুধু বিনোদন দেয় না, ভাবনাকেও প্রসারিত করে। মেয়েকে নিয়ে এসেছি—শিশুদের জন্য আলাদা সেশন থাকাটা খুব ভালো লেগেছে।”
তরুণ নির্মাতা আশিক মাহমুদ মনে করেন, এই উৎসব নির্মাতাদের জন্য এক অনন্য শিক্ষাক্ষেত্র। তাঁর ভাষায়,
“রেট্রোস্পেকটিভ আর ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বিভাগে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো আমাদের মতো নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করে।”
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে এবছর উৎসবে ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, উইমেন ফিল্মমেকার, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস—প্রতিটি বিভাগেই দর্শকদের আলাদা কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার শোগুলোতে প্রবেশের জন্য টিকিটবিহীন এই প্রদর্শনীতে দর্শকদের আগেভাগেই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
উৎসবের নতুন সংযোজন হিসেবে কক্সবাজারের লাবনী বিচ পয়েন্টে ওপেন এয়ার স্ক্রিনিং দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। পাশাপাশি মাস্টার ক্লাস ও আর্ট এক্সিবিশন যুক্ত হওয়ায় উৎসবটি এখন কেবল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
১৮ জানুয়ারি উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সেদিন প্রদর্শিত হবে এবারের সেরা পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র।
উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন,
“ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব মানেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মিলনমেলা। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আশা করছি, দর্শকের এই উচ্ছ্বাস শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।”