শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম স্পারসো ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড, চেয়ারম্যান তারেক রহমান রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন, ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স খাতে বাড়ছে সুযোগ ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক লিটন দাস সিলেটে এনসিপির কর্মসূচির পথে হামলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সারজিসের গাড়ি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ভুয়া নিয়োগে কঠিন ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ‘দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের’, গোলাপগঞ্জে যাওয়ার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও ঢাকায় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর
  • বিনোদন জগতে শোকের ছায়া: সালতামামি ২০২৫

    বিনোদন জগতে শোকের ছায়া: সালতামামি ২০২৫
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০২৫ সাল বাংলাদেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য স্মরণীয় হলেও একই সঙ্গে বেদনাবিধুর একটি বছর। এই সময়ে আমরা হারিয়েছি এমন বহু গুণী মানুষকে, যাঁরা নিজেদের প্রতিভা, শ্রম ও সৃজনশীলতায় দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। লোকসংগীতের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও ব্যান্ড সংগীতের অগ্রদূত—একাধিক নক্ষত্র এ বছর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, রেখে গেছেন গভীর শূন্যতা। তাঁদের চলে যাওয়া আমাদের জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে—

    চলচ্চিত্র ও নাটক: অভিভাবকহীন এক জগত

    অঞ্জনা সুলতানা (চিত্রনায়িকা): ৪ জানুয়ারি ৫৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ছিলেন এবং ৩০০-এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

    প্রবীর মিত্র (কিংবদন্তি অভিনেতা): ৫ জানুয়ারি ৮১ বছর বয়সে মারা যান তিনি। 'নবাব সিরাজউদ্দৌলা' ও 'তিতাস একটি নদীর নাম' সিনেমার মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বেঁচে থাকবেন।

    জাহিদুর রহিম অঞ্জন (পরিচালক): ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রয়াত হন। সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য এবং তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

    সংগীত ও সংস্কৃতি: সুরের আকাশে নক্ষত্র পতন

    সনজীদা খাতুন (সংগীতশিল্পী-সংগঠক): বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব, সংগীতজ্ঞ, ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সনজীদা খাতুন ২৫ মার্চ মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া, কিডনি রোগে ভুগছিলেন তিনি।

    মুস্তাফা জামান আব্বাসী (সংগীতশিল্পী, সুরকার, সংগ্রাহক, গবেষক): ১০ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। ৮৭ বছর বয়সী এই গুণী বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

    জীনাত রেহানা (সংগীতশিল্পী): সালের জুলাই মাসে আমরা হারিয়েছি এই গুণী সংগীতশিল্পীকে। তাঁর কণ্ঠের ‘সাগরের তীর থেকে’ গানটি বাংলাদেশি শ্রোতাদের হৃদয়ে আজও অম্লান। তাঁর মৃত্যু সংগীত জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

    এ. কে. রাতুল (সংগীতশিল্পী): ২৭ জুলাই প্রয়াত হন। তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওনড’-এর ভোকালিস্ট, বেসিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি প্রয়াত অভিনেতা জসিমের ছেলে। 

    অমরেশ রায় চৌধুরী (শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ): ১২ আগস্ট ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কৃতি সংগীতজ্ঞ সারাজীবন শাস্ত্রীয় সংগীতের সাধনা ও প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

    ফরিদা পারভীন (লালন সংগীতের রানি): ১৩ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কিংবদন্তি লালন সংগীতকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

    সেলিম হায়দার (গিটারিস্ট): ২৭ নভেম্বর মারা যান তিনি। জনপ্রিয় ব্যান্ড ফিডব্যাকের গিটারিস্ট হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম।

    জেনস সুমন (সংগীতশিল্পী): ২৮ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর গাওয়া ‘একটা চাদর হবে’ গানটি তাঁকে গ্রাম-বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে পরিচিতি দিয়েছিল।

    সীমানা ছাড়িয়ে: আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শোক

    বাংলাদেশের দর্শকদের প্রিয় এমন বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকাও সালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন:

    মনোজ কুমার (বলিউড অভিনেতা): ৪ এপ্রিল ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন। ‘ভারতমাতা’ খ্যাত এই অভিনেতা দেশপ্রেমিক চরিত্রের জন্য কালজয়ী।

    জুবিন গর্গ (সংগীতশিল্পী): ১৯ সেপ্টেম্বর এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন। দুই বাংলার জনপ্রিয় এই গায়ক ‘বেলিয়া’ এবং বলিউডের ‘ইয়া আলি’ গানের মাধ্যমে কোটি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

    শেফালি জারিওয়ালা (অভিনেত্রী): ২৭ জুন মাত্র ৪২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি ‘কাঁটা লাগা’ গানের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত ছিলেন।

    গোবর্ধন আসরানি (কৌতুক অভিনেতা): ২০ অক্টোবর ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।

    সতীশ শাহ (কৌতুক অভিনেতা): ২৫ অক্টোবর প্রয়াত হন।

    ধর্মেন্দ্র (বলিউড সুপারস্টার): ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে বলিউডের এই ‘হি-ম্যান’ এবং ‘শোলে’ সিনেমার বীরু চিরবিদায় নেন।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন