ভূমিকম্প নিয়ে ভুল তথ্যের কারণে জনমনে শঙ্কা, বিশেষজ্ঞ ছাড়া কথা না বলার আহ্বান

ভূমিকম্পের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ নন, তাদের এ বিষয়ে কথা না বলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতি। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এর ফলে জনমনে ভুল তথ্য সরবরাহ হয় এবং ভূমিকম্প নিয়ে শঙ্কা আরও বাড়ে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান, বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এবং করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ১৯ নভেম্বর হওয়া ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি মূল ধারার গণমাধ্যমের মাধ্যমেও অনেক ভুল তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং এটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলা উচিত। তারা এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ সময় একগুচ্ছ সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপনে বিশদ সমীক্ষা ও গবেষণা করতে হবে। দেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন, টেকটোনিক প্লেট বাউন্ডারির বিস্তৃতি ও প্রকৃতি, মধুপুর ও ডাউকি ফল্টের মতো জানা-অজানা ফল্টের অবস্থান, বিস্তৃতি ও প্রকারভেদ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ভুতাত্ত্বিক জরপি অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন গবেষকের পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানটি মূল সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এ সংস্থাকে জনবল-যন্ত্রপাতি দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। ভূমিকম্প বিষয়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল বিশেষজ্ঞ মুখপাত্র হিসেবে তথ্য আদান-প্রদান করবেন। এতে ভুল তথ্য সরবরাহের শঙ্কা কমবে। জনমনে আতঙ্ক ছড়াবে না। ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিভিন্ন সেক্টরের পেশাজীবী এবং গবেষকদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আনোয়ার জাহিদ। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. রেশাত মো. একরাম আলী, অধ্যাপক ড জিল্লুর রহমান, উপদেষ্টা অলিউল ইসলাম প্রমুখ।