সালমানের বাড়ি হামলার প্রধান আসামি আটক

গায়ক সিধু মুসেওয়ালা এবং ভারতের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকীর হত্যার প্রধান আসামিদের একজন হলেন আনমোল বিষ্ণোই। তিনি কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই এবং বলিউড তারকা সালমান খানের বাড়িতে হামলার মামলায়ও অভিযুক্ত। এবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গেছে, আনমোল অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
এনডিটিভি থেকে জানা গেছে ‘ভানু প্রতাপ’ নামের একটি ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছিলেন তিনি। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভারতে ফেরত পাঠানো হয় এবং তিনি বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে দিল্লিতে পৌঁছান। এনডিটিভির হাতে পাওয়া পাসপোর্টের কপিতে দেখা যায়, এটি ২০২১ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তাতে জন্মতারিখ উল্লেখ করা ছিল ১৫ ডিসেম্বর ২০০০, আর বাবা-মায়ের নাম লেখা ছিল রাকেশ ও সুমিত্রা দেবী। ঠিকানা হিসেবে যুক্ত ছিল ফরিদাবাদের সেক্টর ৮২।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সাক্রামেন্টোতে অবৈধ নথি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েক দিন আগে মহারাষ্ট্রের একটি আদালত আনমোলের বিরুদ্ধে নন–বেইলেবল ওয়ারেন্ট জারি করে এবং ইন্টারপোল প্রকাশ করে রেড কর্নার নোটিশ। ভারতে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এনআইএ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে। এরপর মেডিকেল চেকআপ শেষে তাকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে তোলা হয়, যেখানে সংস্থা ১৫ দিনের রিমান্ড চায়। আদালত ১১ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করে।
এনআইএ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করলে মুম্বাই, দিল্লি, পাঞ্জাব ও হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশও তাদের মামলায় বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইবে। আনমোল বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে যেসব আলোচিত মামলার অভিযোগ রয়েছে ২০২২ সালে পাঞ্জাবের মানসায় সিধু মুসেওয়ালা হত্যা, ২০২৪ সালে মুম্বাইয়ে বাবা সিদ্দিকীর হত্যা, ২০২৪ সালে সালমান খানের বাড়ির সামনে গুলি চলার ঘটনা।
বাবা সিদ্দিকীর ছেলে জিশান সিদ্দিকী এনডিটিভিকে জানান যে, তিনি কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনমোলের ভারতের পাঠানোর বিষয়ে তদারকি করছিলেন। তিনি বলেন, আমার বাবা ও আনমোল বিষ্ণোইয়ের কোনও সম্পর্ক ছিল না। তাই কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পেছনে কার নির্দেশ ছিল এটা জানা খুব জরুরি। ভারতীয় মাটিতে তার পা পড়লেই আমরা আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাব বলে আমি বিশ্বাস করি।
দৈএনকে/জে, আ