টেলিভিশনের প্রিয় অভিনেত্রী জুন লকহার্ট প্রয়াত

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জুন লকহার্ট মারা গেছেন। ‘ল্যাসি’ ও ‘লস্ট ইন স্টেস’সহ বহু টেলিভিশন সিরিজে তার অবদান চিরস্মরণীয়। তিনি ২৩ অক্টোবর, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা-এ বার্ধক্যজনিত কারণে প্রয়াত হন। তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। গত ২৫ জুন তিনি শততম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন।
অভিনেত্রীর পরিবারের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক পিপল ম্যাগাজিন জানিয়েছে, তার মৃত্যুর কারণ ছিল স্বাভাবিক। মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন মেয়ে জুন এলিজাবেথ এবং নাতনি ক্রিশ্চিয়ানা।
নিউ ইউর্কে ১৯২৫ সালের ২৫ জুন জন্ম হয় লকহার্টের। তার ১০ বছর বয়সে পরিবারটি চলে আসে হলিউডে। ৮ বছর বয়সে মঞ্চে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন লকহার্ট। তার প্রথম সিনেমা ‘আ ক্রিসমাস ক্যারল’ মুক্তি পায় ১৯৩৮ সালে। সেখানে ছোট একটি চরিত্র পেয়েছিলেন লকহার্ট।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এই অভিনেত্রীকে পাওয়া গেছে জনপ্রিয় সিবিএস সিরিজ ‘ল্যাসিতে’ রুথ মার্টিনের চরিত্রে। আর ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লকহার্ট কাজ করেছেন অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ ‘লস্ট ইন স্পেস’ এ। সেখানে তিনি ছিলেন রবিনসন পরিবারের মা। যে চরিত্রটি মহাকাশে ভ্রমণ করেছিল।
তরুণ দর্শকদের কাছে লকহার্ট বরাবর একজন মমতাময়ী মায়ের চরিত্রে নিজেকে ‘যোগ্য প্রমাণ করেছেন’। লকহার্ট অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে-‘লক দিস অ্যান্ড হেভেন টু’, ‘অ্যাডাম হ্যাড ফোর সন্স’, ‘সার্জেন্ট ইয়র্ক’, ‘মিস অ্যানি রুনি’, ‘ফরএভার অ্যান্ড আ ডে’ এবং ‘মিট মি ইন সেন্ট লুইস’ ।
চলচ্চিত্রে লকহার্টের ক্যারিয়ার থমকে যায় এক সময়ে। তখন তিনি বেছে নেন টেলিভিশনের পর্দা। কাজ করেছেন গেইম এবং টক শোতেও। জ্যান ক্লেন্টন এবং ক্লোরিস লিচম্যানের পর তিনি সেই তৃতীয় জন, যিনি ‘ল্যাসি’তে মূল নারী চরিত্রটি পান।
‘লস্ট ইন স্পেস’ নাটকের পরও লকহার্টের ব্যস্ত সময় কেটেছে টেলিভিশনের নাটকে অভিনয় নিয়ে। তিনি ‘জেনারেল হসপিটাল’, ‘নাইট সোপ’, ‘নটস ল্যান্ডিং’ এবং ‘দ্য কলবিস’ নাটকে অভিনয় করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে দুইবার বিয়ে করেছিলেন লকহার্ট। দুবারই বিচ্ছেদ হয়েছে।
দৈএনকে/রে,আ