বিতর্কের মুখে বিশ্বকাপের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা

বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপসহ ফিফার শীর্ষ টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগটি বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা, কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, প্রস্তাবটি ফুটবল অঙ্গনে এমন বিভাজন সৃষ্টি করেছে, যা এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
এই পরিকল্পনার আওতায় পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনাটির সমর্থন নিশ্চিত করতে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ কোটি পাউন্ড) দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।
তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ভোট দিয়ে জানায়, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে প্রস্তুত।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর দাবি করেন, প্রকল্পটি নিয়ে সংস্থার প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। তার ভাষায়, "এই প্রকল্প সম্পর্কে ফিফার প্রশাসনকে প্রতারণার মাধ্যমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।"
এদিকে ইনফান্তিনোর বৈশ্বিক কৌশল ও সুশাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করে বলেন, এই উদ্যোগ ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পরিপন্থী। তার মতে, এটি এমন একটি চুক্তি, যা ফুটবলের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারত।
উয়েফার পাশাপাশি আরও দুটি বড় আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশনও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছিল। তাদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের ঐতিহ্য, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার স্বাধীনতা বজায় রাখতে এ ধরনের বাণিজ্যিক উদ্যোগ থেকে সরে আসাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।
ফিফার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আপাতত বিতর্কিত পরিকল্পনার ইতি ঘটলেও, ভবিষ্যতে বিশ্ব ফুটবলের অর্থায়ন ও বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে নতুন আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।