তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশ: মার্কিন বিশেষ দূত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বিনিয়োগের পরিবেশ, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য তাদের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, আগামী মাসে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। এ সফরের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে স্বাগত জানান তিনি।
এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
জবাবে সার্জিও গর বলেন, আইটি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি) বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ মূল্যায়ন করছে এবং এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কাজ করবে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ দূত জানান, মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগিরই ঢাকায় একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজন করতে আগ্রহী। এই আয়োজন বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও কাজ করছেন বলে জানান।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বলেন, বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্বের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানে আসিয়ান, প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।