মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু, নিরাপত্তা জোরদার

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ এবং বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফারজিনা নাসরিন। তিনি জানান, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি বস্তু পাওয়া গেছে। সেটি বিস্ফোরক কি না, তা নিশ্চিত হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহজনক বস্তুটির খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি পরীক্ষা করে দেখবে।
এদিকে ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে একটি পরিত্যক্ত বস্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বস্তার ভেতরে কী রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, এমআরটি পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের যাত্রী ওঠানামা (স্টপেজ) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সন্দেহজনক বস্তুটি সত্যিই বিস্ফোরক কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। জনসাধারণকে ঘটনাস্থলের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচেও একটি ছাতা বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে। ওই ঘটনায় একজন পথচারী আহত হন। সাম্প্রতিক এ ধরনের ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মিরপুর-১০ স্টেশনের ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই বস্তুটির প্রকৃতি এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।