ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া? নতুন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

রাশিয়া ও ইরানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে বলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মস্কো ইরানকে স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি তথ্য এবং ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা তথ্য (Signals Intelligence বা SIGINT) সরবরাহ করছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত তথ্য এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা সুরক্ষা, সম্ভাব্য হামলার আগাম সতর্কতা এবং মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
এনবিসির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্য ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য নির্ধারণকে আরও নিখুঁত করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের সহায়তা ইরানের সামরিক পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ–এর বরাতে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, দেশটি নিজস্ব মহাকাশ কর্মসূচি ও স্যাটেলাইট অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগের সময় কমানো, কক্ষপথে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সহজ করা এবং স্যাটেলাইটের কার্যক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ইরানজুড়ে একটি আধুনিক স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের কয়েকটি সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া প্রকাশ্যে ইরানের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছে।
দুই দেশ ইতোমধ্যে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়, তবে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদারের ভিত্তি হিসেবে চুক্তিটিকে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। তবে মস্কো ও তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে—এমন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।