রিপাবলিকানদের নির্বাচনি বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েল নীতি: ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে দলের অবস্থান অনেক ভোটারের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে জয় পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এ ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের পরদিন বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জোটকে ভোট দেওয়া অনেক সমর্থক এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণেই বিরোধী দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
ভ্যান্স জানান, কয়েকজন জনমত জরিপকারীর সঙ্গে আলোচনা করে দল পরিবর্তন করা ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোন পদক্ষেপ নিলে তাঁরা আবার রিপাবলিকানদের সমর্থন করবেন। তাঁদের উত্তরে চারটি বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলো হলো—ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনা।
পোস্টে একজন রক্ষণশীল মার্কিন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের পরামর্শের কথাও উল্লেখ করেন ভ্যান্স। ওই ব্যক্তি ইরান সংঘাত সামরিক উপায়ে নয়, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ভ্যান্সের মতে, নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে, ওই রাজনৈতিক মূল্যায়ন সঠিক ছিল। ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও নির্বাচনের পর এ বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।
নির্বাচনের পর মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকানদের ভোটের ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে পরবর্তী মূল্যায়নে তাঁর আপত্তি নেই।
ইরান ইস্যুতে ভ্যান্সের অবস্থান নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এপ্রিলের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি ইসরায়েল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের প্রতি ট্রাম্প বরাবরই জোরালো সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। তবে এ বিষয়ে ভ্যান্সের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত। গত মাসে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেও ভ্যান্স এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করায় গত জুনে নেতানিয়াহু সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করেছিলেন ভ্যান্স। পরে জুলাইয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল সরকারের একটি অংশ আলোচনার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
গত মাসেও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কোনোভাবেই ইসরায়েলের নীতির অধীন হতে পারে না। বরং সব ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ভ্যান্সের এসব বক্তব্যের পর রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।