মেসেজে ‘তালাক দিলাম’ লিখলে কি তালাক কার্যকর হবে?

স্বামী স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দেওয়ার পাশাপাশি লিখিতভাবেও তালাক দিতে পারেন—এমন মতামত তুলে ধরা হয়েছে একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যায়। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বামী মেসেজে স্ত্রীকে ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’ লিখে পাঠালেও তালাক কার্যকর হতে পারে। তবে লিখিত তালাকের ক্ষেত্রে স্বামীর নিয়ত ও পরিস্থিতি বিবেচনার বিষয় রয়েছে।
ইবরাহিম নাখাঈ (রহ.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কেউ নিজের হাতে তালাক লিখলে তার ওপর তালাক কার্যকর হবে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মেসেজে ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’ লিখে পাঠালে তা এক তালাকে রজয়ী হিসেবে গণ্য হতে পারে।
তালাকে রজয়ী কার্যকর হলে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্বামী স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে ইদ্দত হলো—স্ত্রী ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতুচক্র অতিক্রম করা পর্যন্ত এবং অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত সময়।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের স্বামীরা যদি আপোষ-নিষ্পত্তি করতে চায়, তবে এ মেয়াদের (ইদ্দতের) মধ্যে তাদেরকে (নিজেদের স্ত্রী হিসেবে) ফেরত গ্রহণের অধিকার তাদের রয়েছে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২৮)
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, তালাকে রজয়ীর পর ইদ্দতের মধ্যে লিখিতভাবেও রুজু করা যায়। ইমাম নববী (রহ.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মৌখিকভাবে রুজু করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও লিখিতভাবে রুজু করলে তা সহিহ হবে।
তবে রুজু করার উত্তম পদ্ধতি হিসেবে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মৌখিকভাবে তা সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, এই মত অনুযায়ী, স্বামী মেসেজের মাধ্যমে এক তালাকে রজয়ী দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকবে।