বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে হবে: হুমায়ুন কবির প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি অভিশংসনের চেষ্টা করলে ডেমোক্র্যাটরাই ধ্বংস হবে: ট্রাম্প নাহিদ ইসলামকে বক্তব্য প্রত্যাহারে ১০ দিনের আইনি নোটিশ মোংলা বন্দরে ৩৩৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী ভরিতে সোনার দাম বাড়ল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, নতুন দর কার্যকর ক্যানভায় বড় পুনর্গঠন, পরিবর্তনের আওতায় ১ হাজার ২৭১টি পদ ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-চীন বাংলাদেশে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় চীনের সঙ্গে সমঝোতা
  • মোংলা বন্দরে ৩৩৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    মোংলা বন্দরে ৩৩৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি আধুনিক জেটি নির্মাণসহ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলা বন্দরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষরোপণ ও দোয়া-মোনাজাতেও অংশ নেন তিনি।

    এর আগে সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে মোংলা বন্দর এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে যান তিনি। সেখানে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শেডে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির আওতায় বন্দর কর্তৃপক্ষের ১০ ও ১১ নম্বর জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনার ইয়ার্ড, ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট এলাকা ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটার, খালি কনটেইনার ইয়ার্ড ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটার, বিপজ্জনক কনটেইনার ইয়ার্ড ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটার এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক ৫০ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। এ ছাড়া প্রশাসনিক ভবন ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশনও নির্মাণ করা হবে।

    প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে। বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং বছরে চার লাখ টিইইউ কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জিত হবে। একই সঙ্গে কনটেইনার সংরক্ষণের জন্য বাড়তি জায়গা তৈরি হবে এবং পণ্য ওঠানামার ব্যয় কমবে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আধুনিক অবকাঠামো ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা যুক্ত হলে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এতে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, পাটজাত পণ্য এবং তাজা খাদ্যপণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে। বন্দর ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী পৃথক কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সুবিধাও তৈরি হবে।

    প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও অর্থায়নের উদ্যোগ শুরু হয় কয়েক বছর আগে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তিতে মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) সঙ্গে জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

    প্রকল্পের অর্থায়নে ২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি (সিআইডিসিএ) এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা সমপরিমাণ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুকসহ কমিটির সদস্যরা।

    এ ছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খান, সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সং ইয়াং এবং সিসিইসিসির চেয়ারম্যান লি চংইয়াং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে জাহাজ চলাচল ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণেও বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

    প্রকল্পের আধুনিক অবকাঠামোর সঙ্গে প্রস্তাবিত চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমন্বয় হলে ভবিষ্যতে মোংলা সামুদ্রিক বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক লজিস্টিকস কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    মোংলার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরিফের উদ্দেশে রওনা হন। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছে জিয়ারত শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাঁর। বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন