মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তরুণের চেয়ে প্রবীণ বেশি হবে বাংলাদেশে, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক তুরাগে সাবেক বিমান কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, দীপের রিমান্ড বাড়ল ৩ দিন আজারবাইজান থেকে ফিরেই পুরস্কার পেলেন কিশোর ফুটবলাররা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ছানি অপারেশন, বিতরণ করা হবে ১ কোটি চশমা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চার দিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব, সরবরাহ কমতে পারে: পেট্রোবাংলা মিরপুরে একা পেয়ে পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি ২৪ ঘণ্টায় হামে ৬ মৃত্যু, সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত ৫৪৬ জন ঢাকায় ৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই চলা যাবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ
  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে ভোট গ্রহণ চলছে। এ নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি আবারও ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে। সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। মূল্যস্ফীতির হার আগের তুলনায় কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় খাবারের খরচ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হচ্ছে মার্কিন পরিবারগুলোকে। এ পরিস্থিতির জন্য অনেক ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী করছে বলে তাঁদের ধারণা।

    তবে অর্থনীতির সামগ্রিক পরিসংখ্যানে কিছু ইতিবাচক চিত্রও রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। কর্মসংস্থানে যুক্ত মানুষের সংখ্যাও রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। গত প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল বার্ষিক হিসাবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

    এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। এতে অনেক মার্কিন নাগরিকের অবসরকালীন সঞ্চয়ের পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু অর্থনীতির এসব ইতিবাচক সূচক সাধারণ মানুষের অসন্তোষ কমাতে পারছে না। কয়েক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কমলেও পণ্য ও সেবার দাম বেশি থাকায় দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ অনুভব করছেন পরিবারগুলো।

    রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবের অবনতি হয়েছে। নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী না হলেও তাঁর অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ভোটারদের কাছে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    শেষ মুহূর্তে কংগ্রেস ধরে রাখার চেষ্টা ট্রাম্পের

    নির্বাচনের আগের দিন সোমবারও প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা। জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের সমর্থন আদায় করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।

    ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় প্রচার চালান ট্রাম্প। রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কারণে স্থানটি তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    এর আগে রোববার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জিততে যাচ্ছি।’ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলটি ক্ষমতায় এলে সাধারণ পরিবারগুলোকে দেউলিয়া করে দেবে।

    অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তের প্রচারে সক্রিয় ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারাও। টেক্সাসে দলটির আলোচিত সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকো এবং কানসাসের প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সমাবেশ ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কর্মসূচি চালায় দলটি। দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের নির্বাচনী প্রচার।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর শঙ্কা

    সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। ফলে বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দলটির মধ্যে।

    প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। কেন্দ্রীয় বাজেট অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে বিরোধী দলের প্রভাব বাড়বে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নিয়ন্ত্রণও পাবে ডেমোক্র্যাটরা।

    এতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনের অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ট্রাম্পকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। মূল্যস্ফীতির চাপ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অচলাবস্থা এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত—সব মিলিয়ে তাঁর প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছর কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    সিনেটের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সাত অঙ্গরাজ্য

    সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এবারের নির্বাচনে সাতটি অঙ্গরাজ্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এগুলো হলো আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাস।

    সর্বশেষ নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জরিপে কানসাস, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। আলাস্কাতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান জরিপের ভুলসীমার মধ্যে থাকায় ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    ঐতিহাসিকভাবে টেক্সাস ও কানসাসে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় বিরল। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এবং কানসাসে ১৯৩২ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার এই দুই অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

    বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। অর্থাৎ নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনও ছিনিয়ে নিতে হবে।

    ভোট নিয়ে বিচার বিভাগের ভূমিকা ঘিরে বিতর্ক

    মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েক দশকের প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্বাচনের আগেই ভোটসংক্রান্ত বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ।

    ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট নিয়ে আপত্তি তোলে বিভাগটি। তাদের অভিযোগ, এসব ভোটারের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার আইনগত অধিকার নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে ফৌজদারি তদন্তও শুরু করা হয়।

    তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই বলেও যুক্তি দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

    বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সোমবার নির্বাচনের আগের দিন আদালত ২০ হাজারের বেশি ভোটারের ব্যালট গণনা বন্ধ করার আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে এসব ব্যালট গণনায় বাধা থাকছে না।

    অন্যদিকে, আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের সঙ্গে একই নামের একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ওই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল বিচার বিভাগ। তবে এ বিষয়ে করা মামলাটি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।

    রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে বিতর্কে ডেমোক্র্যাট নেত্রী

    মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। দলীয় প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি আগের সমর্থন প্রত্যাহার করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

    রোববার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান স্টিভেন্স। এর আগে ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারি নির্বাচনে এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

    তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই নেতার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ইসরায়েল-গাজা সংঘাত, প্রচার বিজ্ঞাপন এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার হাসান পিকারের সঙ্গে এল-সায়েদের সম্পর্ক নিয়ে মতবিরোধের জেরে তাঁদের দূরত্ব বাড়ে। এল-সায়েদের প্রচারশিবিরে নিজের অবস্থান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্টিভেন্স।

    গত শনিবার রাতেও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনে স্টিভেন্স এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়। কিন্তু পরদিন সকালে অবস্থান বদলে রজার্সের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন তিনি।

    স্টিভেন্সের এ সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাট শিবিরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলটির কয়েকজন নেতা একে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন। তবে এল-সায়েদ ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটকে নির্বাচনের মূল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন।

    মিশিগানের এই ঘটনা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের হিসাব-নিকাশে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন