গুগল ক্লাউডে বিভ্রাট, যুক্তরাজ্যে ব্যাংক ও সরকারি সেবায় ভোগান্তি

গুগল ক্লাউডের সেবায় বিভ্রাটের কারণে যুক্তরাজ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যাংক, সরকারি ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটেছে। বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত একটি ঘটনার কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। মঙ্গলবার গুগল জানিয়েছে, তাদের ক্লাউড পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিভ্রাটে ডিজিটাল ব্যাংক রেভলুটসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যাহত হয়। যুক্তরাজ্যের লয়েডস ও এইচএসবিসি ব্যাংক, বাড়ি কেনাবেচার ওয়েবসাইট রাইটমুভ, পার্সেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস ইংল্যান্ড এবং ডাকসেবা রয়্যাল মেইলেও সমস্যার খবর পাওয়া যায়।
রেভলুট জানিয়েছে, বিভ্রাটের কারণে তাদের কয়েকটি সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং এটিএম থেকে টাকা তোলার সুবিধাও ছিল। তবে গ্রাহকদের অর্থ ও তথ্য নিরাপদ রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ইউরোপ-ওয়েস্ট২ ক্লাউড অঞ্চলে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত ঘটনার পর প্রকৌশলীরা কাজ করে সেবা পুরোপুরি সচল করেছেন। লন্ডনভিত্তিক এ অঞ্চলে একাধিক ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও অনলাইন সেবা পরিচালনায় গুগলের এই ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে।
এ ঘটনা আর্থিক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা পরিচালনায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমানে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনায় অল্প কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটির সেবায় বিঘ্ন ঘটলে একসঙ্গে বহু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাজ্য গত জুলাইয়ে গুগল ক্লাউড, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস ও ওরাকলকে আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা হিসেবে সরাসরি নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় আনে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও গত বছর গুগল ক্লাউডসহ ১৯টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লাউড ও কম্পিউটিং সেবাদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে।
যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ) জানিয়েছে, তারা গুগল ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভ্রাটের প্রভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।