ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশে বসছে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন

ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজ ও সহজলভ্য করতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করবে সরকার। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল প্রশিক্ষণের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এসব মেশিন কেনা হচ্ছে।
দেশের ক্যান্সার চিকিৎসার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
মন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের সংকট ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরব্যাপী দেশব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান চালানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
কর্মসূচির আওতায় র্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ঘরে ঘরে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হবে, যাতে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা বাড়ায় চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।