আর্থিক অনিয়মের গুঞ্জনে ক্ষুব্ধ রাকুল প্রীত

আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগের তদন্তে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি তল্লাশি চালিয়েছে ভারতের আয়কর বিভাগ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তল্লাশির স্থানগুলোর মধ্যে অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিংয়ের ঠিকানার নামও আসার পর বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় আলোচনা। তবে অভিনেত্রী দাবি করেছেন, আয়কর বিভাগের এই অভিযানের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কোনো ধরনের অবৈধ আর্থিক লেনদেনে জড়িত নন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে রাকুল প্রীত সিং, তার শ্বশুর প্রযোজক বাসু ভাগনানি এবং প্যানোরামা স্টুডিওসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২টি স্থানে তল্লাশি চালায় আয়কর বিভাগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনেমার শুটিং ও প্রযোজনা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশনার নামে বিদেশে বিপুল অর্থ লেনদেনে অনিয়মের সন্দেহ থেকে এ অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।
তল্লাশির খবর প্রকাশের পর রাকুলের নামও আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন অভিনেত্রী।
রাকুল বলেন, ‘কোনো রকম যাচাই না করে যেভাবে গণমাধ্যম এ খবর প্রচার করেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আয়কর বিভাগের এই তল্লাশি আমাকে নিয়ে ছিল না। আমি সশস্ত্র বাহিনীর পরিবারের সন্তান, কোনো গডফাদার ছাড়াই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছি। ২০ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত সরকারকে কর দিয়ে আসছি। ব্যক্তিগতভাবে বা কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ বিদেশি লেনদেনে আমি কখনো জড়িত ছিলাম না।’
দেশে বা বিদেশে বেনামি সম্পত্তি থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রাকুল। তিনি জানান, দেশ কিংবা দেশের বাইরে কোথাও তার কোনো বেনামি সম্পত্তি নেই। নীতিগত কারণেই তিনি কারও কাছ থেকে মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেন না বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাকুল বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের বাণিজ্যিক চাপ আমি বুঝতে পারি। কিন্তু সেটি তথ্যের সত্যতা আর কারও সম্মান বা জীবিকার বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।’
ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রত্যাহার করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশেরও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে রাকুল প্রীত সিংয়ের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রে অর্থায়ন, প্রযোজনা ব্যয় ও বিদেশে লেনদেনের সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।