মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা, আরও ৬ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চাঁদ উদ্যানের ‘রোজ ভিলা’সংলগ্ন একটি জমিতে থাকা কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় করা মামলার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যান এলাকায় একটি জমিতে থাকা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে একদল ব্যক্তিকে কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে এবং পরে বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় আলমের দখলে থাকা ওই জমিতে জনি ও রেজাউলের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন যায়। তারা জমির টিনের বেড়া ভেঙে কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরে নতুন করে টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর কার্যালয়ের কর্মী আনোয়ার হোসেন রিপন রোববার মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে ওই মামলায় মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর বাসা থেকে ২৩ বছর বয়সী লিমন এবং বাঁশবাড়ি এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সী মনোয়ার হোসেন সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুক্তির ভিত্তিতে ছিনতাই ও জমি দখলের কাজে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আগেও ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিরোধের নিষ্পত্তিতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আদালতের রায়ে যে পক্ষের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসবে, আইনগতভাবে সেই পক্ষই জমির অধিকার পাবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
ডিএমপি জানিয়েছে, চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।