আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ আইনমন্ত্রীর

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘের এই কংগ্রেস। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী।
বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করা, জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রমকারী পুরোনো ও নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও বাড়ানো, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই আন্তর্জাতিক কংগ্রেসের আয়োজন করে। অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরাম।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।