বিশ্বমানের পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে রূপ দেওয়াকে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন কেবল অবকাশযাপনের সুযোগ তৈরি করে না; এর সঙ্গে কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরার বিষয়ও জড়িত। এ কারণে পর্যটনশিল্পকে আধুনিক ও বিশ্বমানের করে গড়ে তোলাকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা, দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং পর্যটনপ্রেমীদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার পর্যটনসেবা আরও সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটনকে আধুনিক ও ভূমি-সাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে ৩০টির বেশি জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি, ইকো, গ্রামীণ, কুলিনারি, নদী ও উপকূলীয় পর্যটনের প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আধুনিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার কার্যক্রমও চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পর্যটন ব্যবসা এবং নতুন পর্যটন স্টার্টআপের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত জাতীয় বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তারেক রহমান। তার ভাষ্য, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাংলাদেশে যাতায়াত আরও সহজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চমূল্য সংযোজনকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রসহ কম ভূমিনির্ভর সেবাখাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্যে পর্যটনশিল্প ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
পর্যটনের উন্নয়ন যেন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশকে নিরাপদ, টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন তিনি।