শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • লন্ডনের ভল্টে থাকা ভেনেজুয়েলার সোনা নিউইয়র্কে নেওয়ার আলোচনা তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ফের ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনা: দ্য হিন্দু শাহ আমানতে যাত্রীর ব্যাগে স্বর্ণের পেস্ট, পকেটে ৩৫ অলংকার তাহসানের সঙ্গে কাচ্চি বিরিয়ানি খেলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত উপনির্বাচনে জোড়াফুল নয়, তৃণমূলের প্রতীক ব্যবহারে কমিশনের স্থগিতাদেশ পাকিস্তানে মসজিদে গাড়িবোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে হাসপাতালে ৭৪৭, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৭৯ আর্জেন্টিনার ম্যাচের ভেন্যুতে পরিবর্তন, লা বোম্বোনেরায় হতে পারে বুরকিনা ফাসো ম্যাচ হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৯৭ হামের চিকিৎসায় মহাখালী হাসপাতাল, নেই পিআইসিইউ-এনআইসিইউ; সংকটে সেবাব্যবস্থা
  • ফ্যাটি লিভার কমাতে ওষুধের আগে যেসব অভ্যাস জরুরি

    ফ্যাটি লিভার কমাতে ওষুধের আগে যেসব অভ্যাস জরুরি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ফ্যাটি লিভার এখন বেশ পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। সাধারণত অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সঙ্গে এর সম্পর্ক বেশি দেখা গেলেও শারীরিকভাবে পাতলা মানুষেরও এ সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মতো জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমানো সম্ভব হতে পারে।

    ফ্যাটি লিভারের একটি প্রচলিত ধরনকে বর্তমানে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বলা হয়। এ অবস্থায় লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এবং এর সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও পেটের অতিরিক্ত চর্বির মতো বিপাকীয় সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

    তবে ফ্যাটি লিভার কমানোর জন্য দ্রুত ওজন কমানো বা তথাকথিত ‘ডিটক্স’ ডায়েট অনুসরণ করা জরুরি নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা যায়—এমন খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ওষুধ ছাড়া ফ্যাটি লিভার কমানো সম্ভব?

    অনেকের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে, জীবনযাপনের পরিবর্তন লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে। শরীরের ওজন ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমলেও লিভারের চর্বি কমার সুফল পাওয়া যেতে পারে।

    অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমানো লিভারের প্রদাহ ও ফাইব্রোসিসের উন্নতিতেও সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু ওজন কমানোই বিষয় নয়। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড ও ব্যায়াম ওজন না কমলেও লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

    অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে কমান

    ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য কঠোর বা অস্বাভাবিক কোনো ডায়েট অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই।

    উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার ও পানীয় কমানো, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করা যায়।

    অল্প সময়ে অনেক ওজন কমানোর লক্ষ্য নেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব—এমন অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। কারণ খুব দ্রুত ওজন কমানোর পদ্ধতি অনেকের পক্ষেই দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন।

    অন্যদিকে, শরীরের ওজন স্বাভাবিক হলেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু ওজন কমানোর পরিবর্তে রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য ঠিক রাখার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    চিনি ও পরিশোধিত শর্করা কমান

    অতিরিক্ত চিনি ও চিনিযুক্ত পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের পাশাপাশি বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি জুস, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা ভালো।

    এর পরিবর্তে শাকসবজি, ডাল, শিমজাতীয় খাবার, গোটা শস্য, বাদাম ও গোটা ফলের মতো পুষ্টিকর ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

    তবে শর্করা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কী ধরনের শর্করা খাচ্ছেন এবং কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন—সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    সব ধরনের চর্বি বাদ দেওয়ার দরকার নেই

    ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই খাদ্যতালিকা থেকে সব ধরনের চর্বি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কমিয়ে স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে।

    বাদাম, বীজ, মাছ ও কিছু উদ্ভিজ্জ তেলে স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়। অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার সীমিত করা ভালো।

    একটি নির্দিষ্ট খাবারের পরিবর্তে পুরো খাদ্যাভ্যাস কেমন—সেটিই ফ্যাটি লিভার ব্যবস্থাপনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

    ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা জগিংয়ের মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এবং লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    পাশাপাশি শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশি তৈরি ও ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে শুরুতেই কঠিন ব্যায়ামে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে দৈনন্দিন চলাফেরা ও ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়ানো এবং নিয়মিত চালিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

    ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

    ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ রক্তে শর্করা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ লিভারের সমস্যার অগ্রগতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    তাই শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না। নিয়মিত রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

    কিছু ক্ষেত্রে এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। ওষুধ গ্রহণের অর্থ জীবনযাপনের পরিবর্তন ব্যর্থ হয়েছে—এমন নয়। বরং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়াই চিকিৎসার অংশ হতে পারে।

    ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ বা শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে লিভারে প্রদাহ বা ফাইব্রোসিসের মতো জটিলতা থাকলে শুধু জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ