উপনির্বাচনে জোড়াফুল নয়, তৃণমূলের প্রতীক ব্যবহারে কমিশনের স্থগিতাদেশ

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন দুই বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
দলের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত এলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থি ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থি—উভয় পক্ষই নিজেদের তৃণমূলের বৈধ অংশ বলে দাবি করছে।
জানা গেছে, উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারীরা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আপাতত কোনো পক্ষকে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত নেতৃত্ব, দলের নিয়ন্ত্রণ এবং তহবিলের মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতীক ব্যবহারের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে আপাতত কোনো পক্ষই ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে উপনির্বাচনের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক বেছে নিতে হবে।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে বিধানসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে উভয় পক্ষ নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে কোন প্রতীকে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নির্বাচনে দলটির ৮০ জন প্রার্থী জয়ী হন। পরে দলের অন্যতম নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলীয় অভ্যন্তরে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। নির্বাচিত বিধায়কদের একটি অংশ তার সঙ্গে অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে নেতৃত্ব ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে।
উভয় পক্ষ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে আসছে। এ বিরোধের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপাতত কোনো পক্ষকেই তৃণমূল কংগ্রেসের স্বীকৃত মূল দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে দলীয় প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে জোড়া ঘাসফুলের প্রতীকটি পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পায়।
প্রতীকটিতে সবুজ ঘাসের মধ্যে পাশাপাশি দুটি ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতীকটি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। দলের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানের সঙ্গেও প্রতীকটির রাজনৈতিক প্রচারে ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
তবে আসন্ন দুই উপনির্বাচনে সেই পরিচিত প্রতীক ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে তৃণমূলের দুই পক্ষকে—কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এমনটাই থাকছে বর্তমান পরিস্থিতি।
সূত্র : আনন্দবাজার