মক্কায় হামলার পর ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকরের কথা বলল পাকিস্তান

ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগের পর ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ।
বুধবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
খাজা আসিফ বলেন, “আমরা মক্কা চুক্তির অংশীদার হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করব এবং আমরা মনে করি, এ চুক্তি সক্রিয় করার সময় এসে গেছে। কারণ খোদ মক্কায় হামলা হয়েছে।”
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর মক্কার দিকে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ধেয়ে আসার কথা জানায় সৌদি আরব। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করে, কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়।
হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করে সৌদি আরব। তবে হুথি বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্যবস্তুগুলো সৌদি আরবের জ্বালানি ও সামরিক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ধর্মীয় বা পবিত্র কোনো স্থাপনাকে কখনও আমরা লক্ষ্যবস্তু করি না।”
জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুথি বাহিনীকে সতর্ক করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “পরবর্তীতে যদি কখনও মক্কায় হামলা হয়, তাহলে পাকিস্তান মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার জন্য অপেক্ষা করবে না। কারণ পাকিস্তান মনে করে, ধর্মীয় স্থাপনা ও স্থান রক্ষা করা একটি পবিত্র কর্তব্য।”
এদিকে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বলতে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোকে বোঝানো হয়েছে। খাজা আসিফের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কার মতো ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে পাকিস্তান এ সহযোগিতা কাঠামো সক্রিয় করার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তবে ড্রোন হামলার দায় হুথিরা অস্বীকার করেছে এবং তাদের দাবি, সৌদি আরবের ধর্মীয় স্থাপনাগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু নয়।
সূত্র: জিও নিউজ