লন্ডনের ভল্টে থাকা ভেনেজুয়েলার সোনা নিউইয়র্কে নেওয়ার আলোচনা

লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুরক্ষিত ভল্টে থাকা ভেনেজুয়েলার বিপুল সোনার মজুত যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ টন সোনা লন্ডন থেকে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তর করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তি জানিয়েছেন, সোনা স্থানান্তরের বিষয়ে সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে থাকা ভেনেজুয়েলার সোনা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই সোনা কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়েও বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণের কথা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ টন সোনা বর্তমানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। এ সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে প্রায় সাত বছর ধরে বিরোধ চলছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আইনি লড়াই যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
এবার সমঝোতা হলে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একটি নিষ্পত্তির পথ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান আলোচনার একটি বাস্তব ফল হিসেবেও সোনা স্থানান্তরের উদ্যোগটি দেখা হচ্ছে।
তবে সোনার ব্যবহার নিয়ে বিরোধী পক্ষের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক সরকারের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই সোনার মজুত যাতে অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দাবি জানিয়েছে।
সম্ভাব্য সমঝোতায় সোনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে সোনা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হলেও দেশটির সরকার ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা ব্যবহার করতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। একই সময়ে ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সরকার পরিচালনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ভেনেজুয়েলার ওপর থাকা কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। চলতি সপ্তাহে দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় লন্ডনে থাকা ভেনেজুয়েলার সোনা নিউইয়র্কে স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগটি আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস