মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরপুর বিআরটিএতে অভিযান, ৫ দালালের কারাদণ্ড সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল খতিয়ে দেখবেন উপদেষ্টা জাহেদ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নীরব প্রতিবাদ হামে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৩১৬ সিলেটে শাহজালাল-শাহপরানের মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি এয়ারবাস কেনায় স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে: বিমানমন্ত্রী আরব আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সচেতনতায় দুবাই পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মনপুরায় জেলের জালে ১৫ কেজির পাঙ্গাস, বিক্রি ২০ হাজার টাকায় সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না, ট্রিগার আমিও টানতে জানি : শিক্ষামন্ত্রী
  • মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না, ট্রিগার আমিও টানতে জানি : শিক্ষামন্ত্রী

    মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না, ট্রিগার আমিও টানতে জানি : শিক্ষামন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, কলেজ তদারকি, পরীক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে না। নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়কেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না। ট্রিগার আমিও টানতে জানি।’

    উপাচার্যের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তাঁর হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সাত মাসে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে উদ্যোগ ও কাজের গতি দৃশ্যমান হওয়া দরকার। উপাচার্যের নেতৃত্বে যে দল দেওয়া হয়েছে, তাদের উৎপাদনশীলতা ও কাজের ফলাফল সরকার দেখতে চায়।

    মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২ হাজার ৩০৭টি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কোন কলেজে কী পড়ানো হচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কেমন এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগ কেমন—এসব বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

    শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদান ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

    অনার্স ও মাস্টার্স চালুর ক্ষেত্রেও যথাযথ পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন কলেজও রয়েছে যেখানে এক বা দুজন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো বিষয়ে অনার্স চালু রয়েছে। আবার কোথাও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতও ঠিক নেই। এসব তথ্য যথাযথভাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে এমন কিছু বিষয় দেখেছেন, যা তাকে হতাশ করেছে। পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করার নির্দেশ দেন তিনি।

    এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে খাতা মূল্যায়নে ত্রুটি ছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

    প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, ১০০ জন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করালে ৯০ জনের প্রশ্নের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। গাইড ও নোট বইয়ের সঙ্গেও প্রশ্নের মিল দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    শিক্ষা খাতে এবারের বাজেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু বড় বাজেট পেলেই হবে না, সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি টাকা ও প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে রবীন্দ্রভারতীতে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের জন্য ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জন্মবার্ষিকী আয়োজনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরির জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য আসতে হচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে উদ্যোগ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয়ই মেধাবী। মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন