মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

মার্কিন প্রতিরক্ষায় বড় পরিবর্তন, পদত্যাগ করলেন সেনা সচিব ড্রিসকল

মার্কিন প্রতিরক্ষায় বড় পরিবর্তন, পদত্যাগ করলেন সেনা সচিব ড্রিসকল
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যানিয়েল ড্রিসকল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা মতবিরোধের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

স্থানীয় সময় সোমবার ড্রিসকলের পদত্যাগের বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তা সরাসরি নাকচ করেনি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে ড্রিসকলের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী বিভাগে ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানের সময় নেতৃত্ব দেওয়া, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় সহায়তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্রিসকল অবদান রেখেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কমান্ডার-ইন-চিফ ও যুদ্ধবিষয়ক সচিবের সঙ্গে কাজ করে ড্রিসকল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন।

তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন সেনাবাহিনীও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ড্রিসকল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আইন বিভাগের সাবেক সহপাঠী। পেন্টাগনে হেগসেথের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনে পদ ছাড়তে যাওয়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে ড্রিসকল সর্বশেষ।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন হেগসেথ। জুনে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও আকস্মিকভাবে পদ ছাড়েন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

রয়টার্সের সূত্রের দাবি, সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তর ও প্রস্তুতি’ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন ড্রিসকল। এসব উদ্যোগে হেগসেথ বাধা দিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে কাজ করা জেনারেলদের সরিয়ে দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক পদে ড্রিসকলের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর কম খরচে দ্রুত অস্ত্র সংগ্রহ এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়াকে আরও নমনীয় করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনাও করেছিলেন।

সেনাবাহিনীর সচিব হিসেবে সৈন্যদের প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়।

রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হেগসেথ ড্রিসকলকে পেন্টাগনের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তাকে সরানো সহজ ছিল না বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।

সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার ঘটনায় ড্রিসকল হতাশ হয়েছিলেন এবং এরপর হেগসেথের সঙ্গে তার মতবিরোধ আরও বাড়ে বলে রয়টার্সের সূত্রের দাবি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ট্রাম্প প্রশাসন ড্রিসকলকে দায়িত্ব দেওয়ার পর পেন্টাগনের বাইরেও তার পরিচিতি বাড়ে। একজন সেনা সচিবকে এমন কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত করার ঘটনা ছিল তুলনামূলকভাবে বিরল।

ড্রিসকল ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে তিনি কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন প্রচারে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন