‘মনে হয়েছিল জীবন শেষ করে দিই’, জেলের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন রাজ

২০২১ সালে পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টীর স্বামী ও ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা। সেই সময়কে জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন সময়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। এবার কারাগারে থাকাকালে স্ত্রী শিল্পা শেট্টীর সঙ্গে বিচ্ছেদের গুঞ্জন শুনে কীভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, সে কথাও জানিয়েছেন রাজ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজ জানান, কারাগারে থাকার সময় এমনিতেই মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যে একদিন সংবাদমাধ্যমে জানতে পারেন, শিল্পা নাকি তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবরটি শুনে তিনি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন।
রাজের ভাষ্য, ওই রাতে তিনি আর ঘুমাতে পারেননি। তাঁর কাছে পরিবার ও স্ত্রী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিস্থিতির চাপে একপর্যায়ে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চিন্তাও তাঁর মাথায় এসেছিল।
শিল্পার ফোনেই বদলে যায় পরিস্থিতি
তবে পরদিনই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। রাজ জানান, তিনি শিল্পার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন শিল্পা তাঁকে স্পষ্ট করে জানান, বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
শিল্পা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি রাজের পাশে আছেন এবং তাঁকে বিশ্বাস করেন। স্ত্রীর সেই আশ্বাসই কঠিন সময়ে তাঁকে মানসিকভাবে সামলে উঠতে সাহায্য করেছিল বলে জানান রাজ।
৬৩ দিনের কারাজীবনে কমেছিল ১৭-১৮ কেজি ওজন
সাক্ষাৎকারে কারাগারে কাটানো দিনগুলোর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন রাজ কুন্দ্রা। মুম্বাইয়ের আর্থার রোড জেলের পরিবেশ এবং খাবার নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।
রাজের দাবি, কারাগারের খাবার খাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। অনেক সময় বিস্কুট ও পানি খেয়েই থাকতে হয়েছে। ৬৩ দিনের বন্দিজীবনে তাঁর ওজন প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কেজি কমে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
‘পরিকল্পিত আক্রমণের অংশ’
রাজ কুন্দ্রা আরও দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটিকে তিনি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেন না। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি ছিল একটি পরিকল্পিত আক্রমণের অংশ।
এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানান।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান রাজ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে পরবর্তী সময়েও আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। তবে কারাগারে কাটানো সেই সময়ের মানসিক চাপ ও অভিজ্ঞতার প্রভাব যে এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে, সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেটিই উঠে এসেছে।