রাখাইনের সংঘাতে থমকে যেতে পারে ৩ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন

বাংলাদেশের আশ্রয়শিবির থেকে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে আরও সময় লাগতে পারে। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মিয়ানমার।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাখাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মিয়ানমারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসনের জন্য এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ রোহিঙ্গার তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করেছে মিয়ানমার। যাচাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতিই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে। বর্তমানে সিতওয়ে ও কয়েকটি এলাকা ছাড়া রাখাইনের বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মিয়ানমার বলছে, রাখাইনে পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ যাচাই শেষে প্রত্যাবাসনের জন্য যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ৩ লাখ ৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকেও আপাতত অপেক্ষায় থাকতে হবে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে তাদের বড় অংশ কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের কাছে তাদের নামের তালিকা পাঠিয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বসহ নানা বিষয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এর আগে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ সফল হয়নি।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই দেশ প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।
নতুন করে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের ঘোষণা কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও রাখাইনের সংঘাত পরিস্থিতি সেই উদ্যোগের বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলেছে। ফলে প্রত্যাবাসন কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।