উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান-এমডিসহ ৪ পরিচালকের পদত্যাগ

নানা অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে সংকটে থাকা উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ছয় মাসের মাথায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালক একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও অনৈতিক চাপের কারণে তারা দায়িত্ব পালন নিয়ে অসুবিধায় পড়েছিলেন।
পদত্যাগ করা চারজন হলেন—উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুখতার হোসেন, এমডি ওয়ালি উল্লাহ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নিয়ামুল কবির এবং স্বতন্ত্র পরিচালক রফিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। চার স্বতন্ত্র পরিচালক ও উত্তরা গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মাহবুব আলমকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল।
চার পরিচালকের পদত্যাগের পর পর্ষদে এখন স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং পরিচালক মাহবুব আলম—এই দুজন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অংশ এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরের একটি পক্ষের অনৈতিক চাপের কারণে পদত্যাগকারী পরিচালকরা দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারছিলেন না। তবে এ বিষয়ে পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
উত্তরা ফাইন্যান্স দীর্ঘদিন ধরেই নানা আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সংকটে রয়েছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে আমানতকারীদের অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর, ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ বিতরণ এবং কলমানির অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের মতো অভিযোগ সামনে আসে। এতে প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য উদঘাটনের কথা জানানো হয়।
এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং উত্তরা গ্রুপের পাঁচ প্রভাবশালী পরিচালক ও তৎকালীন এমডি এসএম শামসুল আরেফিনকে অপসারণ করে। পরে নতুন পর্ষদ গঠন করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই চেয়ারম্যান, এমডি ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালন কাঠামো আবারও বড় সংকটে পড়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।