‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর ৫৫ বছর, প্রকাশ পেল ‘দ্য লিগ্যাসি’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখা ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ সংগীত প্রযোজনা ‘দ্য লিগ্যাসি’। মুক্তিযুদ্ধ, মানবতা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বিশেষ সংগীতচিত্র নির্মাণ করেছেন সংগীতশিল্পী ও সেতারবাদক জাহাঙ্গীর আলম (শ্রাবণ)।
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন এবং সেতারসম্রাট পণ্ডিত রবিশঙ্করের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় আয়োজিত সেই কনসার্ট বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে মানবতার অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেই ঐতিহাসিক আয়োজনের ৫৫ বছর স্মরণে নির্মিত ‘দ্য লিগ্যাসি’তে পণ্ডিত রবিশঙ্করের বিখ্যাত ‘বাংলা ধুন’-এর সুরের সঙ্গে চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জনপ্রিয় গান ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’ নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংগীতচিত্রটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে একটি আবেগঘন পরিবেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
এই আয়োজনে সেতার পরিবেশন করেছেন জাহাঙ্গীর আলম (শ্রাবণ)। কণ্ঠ দিয়েছেন মাহমুদুল হাসান, পুতুল সাজিয়া সুলতানা এবং বর্ণালী সরকার। আধুনিক সংগীতায়োজনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম (শ্রাবণ) বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণ নয়; বরং ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর মানবিক বার্তা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংগীতের মাধ্যমে বিশ্বমানবতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
তিনি আরও জানান, এই সংগীতচিত্রে পণ্ডিত রবিশঙ্করের অসামান্য অবদান এবং সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টিশীলতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশ-বিদেশের দর্শক-শ্রোতাদের কাছে ‘দ্য লিগ্যাসি’ সমাদৃত হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুনভাবে অনুধাবন করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।