বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • জলবায়ু সংকটে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি হুমকিতে, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক

    জলবায়ু সংকটে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি হুমকিতে, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে থাকা তীব্র তাপপ্রবাহ আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত 'A Livable Future: Protecting Jobs and Growth from Extreme Heat in South Asia's Cities' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম তাপমাত্রার কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে প্রায় ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও তাপপ্রবাহ উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৫২ কোটি মানুষ প্রতি বছর অন্তত এক মাস বিপজ্জনক মাত্রার তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে পারেন, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

    বিশ্বব্যাংকের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ইতোমধ্যে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং নগর অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপরও বাড়ছে চাপ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, শিশু ও প্রবীণরা।

    বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এর শহরগুলোর ওপর। কিন্তু ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, জীবিকা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাই তাপ-সহনশীল নগর গড়ে তোলা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

    তিনি বলেন, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে কর্মসংস্থান রক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহকে কেবল মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে না দেখে উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি নীতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে তাপ-সহনশীল ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংক সুপারিশ করেছে, হিট অ্যাকশন প্ল্যান জোরদার করা, তাপ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, নগর সবুজায়ন বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা, জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান জন ওয়ারবার্টন বলেন, তাপপ্রবাহ শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, জীবিকা, উৎপাদনশীলতা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। এটি একটি বড় উন্নয়ন সংকট, যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে হিট অ্যাকশন প্ল্যান, সহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, নগর সবুজায়ন এবং জ্বালানি-দক্ষ শীতলীকরণ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

    বিশ্বব্যাংকের মতে, দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে সরকারগুলোর বর্তমান নীতিগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের শহরগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে, নাকি তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে উন্নয়ন ব্যাহত হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ