শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির লাখো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে ঢাকায় বিএনপির সার্বভৌমত্ব র‌্যালি ‘হাবিবি’ নামে রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সিনেটর ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৬৭৪ গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে আসার পথে গরমে দুই সদস্যের মৃত্যু, পরিবার পাবে ৩ লাখ টাকা বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি হৃদয়ের ৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা বরবাদ’ সিনেমার নির্মাতার সাথে প্রেমের গুঞ্জন, যা বললেন দীঘি ডিপিডিসির জুরাইন দপ্তরের জিম্মিদশা: পিওন মোশাররফের অপকর্ম অবৈধ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ  ‘৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা’: প্রধানমন্ত্রী
  • জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নে বড় ঘাটতি, ২০৩৫ সালেও চাহিদার ২৯ শতাংশ পূরণ হবে

    জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নে বড় ঘাটতি, ২০৩৫ সালেও চাহিদার ২৯ শতাংশ পূরণ হবে
    ছবি: ইউএনইপি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন কার্যক্রমের গতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ধীর। একই সঙ্গে এ খাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়নেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে বছরে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হলেও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন তিন গুণ করা সম্ভব হলেও চাহিদার মাত্র ২০ থেকে ২৯ শতাংশ পূরণ হবে। জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির (ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম) নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রকাশিত ইউএনইপির ‘২০২৬ অ্যাডাপটেশন গ্যাপ রিপোর্ট: রেডি? নট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, কার্যকর পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলো থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সরকারি অভিযোজন অর্থায়ন ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ২৮২ থেকে ৩১৭ কোটি ডলারে। আগের বছরের তুলনায় এই অর্থায়ন বেড়েছে মাত্র ১০০ কোটি ডলার। অথচ ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজন চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। জাতীয়ভাবে নির্ধারিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি (এনডিসি), জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) এবং বিভিন্ন মডেলভিত্তিক হিসাব পর্যালোচনা করে এ চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের নিজস্ব অভিযোজন চাহিদা এতে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত নয়। সেটি যুক্ত হলে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

    ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০ সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অভিযোজন অর্থায়ন অন্তত তিন গুণ বাড়ানোর বিষয়ে বৈশ্বিক ঐকমত্যের আহ্বান জানানো হয়। তবে বর্তমান অর্থায়ন অথবা গ্লাসগো ক্লাইমেট প্যাক্টের ভিত্তিতে এই লক্ষ্যমাত্রা হিসাব করা হচ্ছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে ২০৩৫ সালে অর্থায়নের পরিমাণ বছরে ৮৫০০ কোটি থেকে ১২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পরও এই অর্থ দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট অভিযোজন চাহিদার মাত্র ২০ থেকে ২৯ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য অর্থায়ন তিন গুণ করা গেলে তাদের চাহিদার ৪৯ থেকে ৮৩ শতাংশ পূরণ হতে পারে।

    ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেন, বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিতে বিশ্ব প্রস্তুত নয়। সেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। কপ৩১ সম্মেলনসহ পরবর্তী আন্তর্জাতিক আলোচনায় অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মানুষের জীবন রক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মধ্যে অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করে ৪০০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার গ্লাসগো ক্লাইমেট প্যাক্টের লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলো ২০২৫ সালে অভিযোজন খাতে অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ায় দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের অর্থায়নে কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তার ওপরও এই লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করবে।

    উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থায়ন ও সহযোগিতাও বাড়ছে। বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং সরাসরি দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অর্থায়ন ২০১৯ সালের ৩৮০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৯৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বেসরকারি খাতের অর্থায়নও বাড়ছে। তবে এর বড় অংশ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভিযোজন চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে অথবা উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই এর ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে সরকারি উদ্যোগনির্ভর অভিযোজন কার্যক্রমের অর্থায়ন ঘাটতি কমাতে বেসরকারি অর্থায়নের অবদান সীমিত।

    ইউএনইপি বলছে, শুধু অর্থায়ন বাড়ালেই জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম তৈরি, বিভিন্ন খাত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ পরিকল্পনাকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দিতে সহায়ক হতে পারে।

    এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। যথাযথ প্রশমন ও অভিযোজন উদ্যোগের অভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমনকি কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কিছু ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এসব ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পাশাপাশি জটিল আবেদনপ্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

    এর একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তহবিলটির প্রথম দফায় বিভিন্ন দেশ ও পক্ষের পক্ষ থেকে ২৮০ কোটি ডলারের সহায়তার আবেদন জমা পড়ে। অথচ প্রাথমিকভাবে তহবিলটিতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। আবেদন ও বরাদ্দের এই বিশাল ব্যবধান জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থের চাহিদা ও প্রাপ্যতার মধ্যকার সংকটকে স্পষ্ট করেছে। তবে বিশ্বজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মোট অর্থের ঘাটতি কত, তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের সক্ষমতা বাড়ানো, পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা, সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউএনইপি।

    আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১। সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে কম দায়ী অথচ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন