বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ঋণ সংকট নিরসনে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত ব্যবস্থার প্রস্তাব বাংলাদেশের

ঋণ সংকট নিরসনে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত ব্যবস্থার প্রস্তাব বাংলাদেশের
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ঋণ সংকট মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ-ভার লাঘব, ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো অর্থনৈতিক চাপ কাটিয়ে উঠতে পারবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) নিউইয়র্কে ইউনিসেফ সদর দপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। বিষয়টি বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকীও উপস্থিত ছিলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং ঋণের বাড়তি চাপ বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতাকে সংকুচিত করেছে। তবুও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে সরকার নারী, শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভকাল, শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, শিশুদের জন্য সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে সরকার ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর, এক ওয়ালেট’ কৌশল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী এবং বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিশুদের সার্বিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান। তিনি সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মধ্যেও শিশু ও নারীর কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ সময় শিক্ষা, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন