অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, মেধাবীদের বৃত্তি দিতে চায় সরকার

মেয়েদের স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালুরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ এবং কৃষকদের জন্য আধুনিক পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনার্স পর্যায়ে যারা ভালো ফল করবে, তাদের জন্য মেধাভিত্তিক বৃত্তি চালুর উদ্যোগও রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
কৃষি খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় কমানো, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৫০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পের আওতায় পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে ৯০০টি আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ঘরে ১০ থেকে ১২ টন পণ্য সংরক্ষণ করা যায়।
এ ছাড়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১৯ হাজার কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় মোট ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ (এয়ার ফ্লো) মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় কমবে এবং কৃষকরা মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।