বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

গুজব ছড়ানো ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নজরে: সংসদে মন্ত্রী

গুজব ছড়ানো ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নজরে: সংসদে মন্ত্রী
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়সংবলিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯-এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের আদলে তৈরি ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশ করা হয়েছে ৩০৬টি।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলাফ্যাক্ট।

সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মশালায় ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তিনি জানান, এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ক ১৪টি বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের গুজব শনাক্ত, তথ্য যাচাই এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তবে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো বিশেষ সেল গঠন বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা রয়েছে কি না—এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কোনো নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করেননি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন