প্রশাসনে ‘ফ্যাসিবাদী’ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সার্ভিস ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পদোন্নতি ও পদায়নের সময় বিবেচনায় আসে।
তিনি আরও জানান, কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও সুশাসনের চর্চা বাড়াতে চলতি অর্থবছরে বিভাগীয় কমিশনারদের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছরজুড়ে আরও আটটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সিভিল সার্ভিসের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি চাকরির জনবল পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও শূন্য রয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাডারে বর্তমানে ৮ হাজার ৯৯টি পদ খালি রয়েছে।
প্রশাসনের উচ্চপদে কর্মরত কর্মকর্তাদের সংখ্যাও তুলে ধরেন তিনি। তার তথ্য অনুযায়ী, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।
বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ৪৪তম বিসিএসে যেখানে প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছিল, সেখানে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র এক বছর সাত মাসে। ভবিষ্যতে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হার প্রায় ২৯ শতাংশ। নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত থেকে মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।