সমীকরণ মিললেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার লড়াই। দুই দলের মুখোমুখি ম্যাচ মানেই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর বাড়তি আগ্রহ। এবার সেই প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা যেতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে জয় তুলে নেওয়ার পর তাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা এবং সেই ম্যাচেও জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী দলটি।
দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থানে এগিয়ে রয়েছে উরুগুয়ে। ফলে নকআউট পর্বে দক্ষিণ আমেরিকার আরেক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হতে পারে মেসিদের।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেলেসাওরা। তাদের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে জাপান।
টুর্নামেন্টের বর্তমান ড্র অনুযায়ী, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি নিজেদের দ্বিতীয় রাউন্ড, তৃতীয় রাউন্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এমনটি হলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি উপহার পেতে পারেন ফুটবলপ্রেমীরা।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে সবশেষ ১৯৯০ সালের ২৪ জুন একে অপরের বিপক্ষে খেলেছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত সেই রাউন্ড অব সিক্সটিন ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল।
সেই ম্যাচে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ অ্যাসিস্ট থেকে ৮১তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেছিলেন ক্লদিও ক্যানিজিয়া। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত এটিই দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ।
তাই এবার সেমিফাইনালে দেখা হলে প্রতিশোধের মিশনে নামবে ব্রাজিল। অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা নিজেদের শিরোপা স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চাইবে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল এখন থেকেই ফুটবল অঙ্গনের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।