স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বাড়াতে হবে আন্তর্জাতিক সহায়তা: জাতিসংঘে বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়ন অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুত বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) সময়মতো প্রদান এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) যৌথ থিম্যাটিক সভায় বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। সভায় দোহা কর্মসূচির (ডিপিওএ) বাস্তবায়নের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বৈশ্বিক ঋণ সংকট এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক স্বল্পোন্নত দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও কার্যকর ও সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের প্রক্রিয়াকে টেকসই ও সফল করতে অতিরিক্ত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে উত্তরণকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি দেশগুলোর জন্য উত্তরণের আগে, উত্তরণকালে এবং উত্তরণের পরবর্তী সময়েও আন্তর্জাতিক সহায়তা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার অব্যাহত রাখতে হবে। এতে উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা সম্মেলন এলডিসি এবং উত্তরণশীল দেশগুলোর জন্য গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে এই সম্মেলন উন্নয়ন সহযোগিতা ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ মনে করে, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও প্রতিশ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্বল্পোন্নত দেশগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।