সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Natun Kagoj

অসংক্রামক রোগে ৭১% মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে ৩৫ মন্ত্রণালয়

অসংক্রামক রোগে ৭১% মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে ৩৫ মন্ত্রণালয়
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে এবার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মঙ্গলবার (২২ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গঠিত ‘সমন্বয় কমিটি’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

সভায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেন, যারা অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন। এতে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ।

সভায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের বেশি ঘটাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ মৃত্যু অকালপ্রাপ্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উদ্যোগ, নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব রোগ মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সুস্থ জীবনযাপনে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম ও সচলতা বাড়ানো জরুরি। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অংশগ্রহণে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১৯ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেবে এবং এক থেকে তিন মাসের মধ্যে নিজ নিজ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।

এছাড়া কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণ, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী ও প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ